রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার একসময় ইসলামী ছাত্রশিবিরের ‘সাথী’ ছিলেন। তবে ‘নৈতিক পদস্খলন, নারীদের সঙ্গে অবাধ বিচরণ, অবৈধ আর্থিক লেনদেন’সহ একাধিক অভিযোগের পর ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তার ‘সাথী’ পদ বাতিল করা হয় বলে শাখা ছাত্রশিবিরের একটি চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি হাফেজ মেহেদী হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল বাবুর স্বাক্ষর করা গত ৩১ আগস্টের চিঠিতে আম্মারের সঙ্গে সংগঠনের দায়িত্বশীল নেতাকর্মীদের যোগাযোগ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে তার বিরুদ্ধে নৈতিক পদস্খলন, মৌলিক ইবাদত পালনে উদাসীনতা, নারীদের সঙ্গে অবাধ বিচরণ, অবৈধ আর্থিক লেনদেন এবং সংগঠনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়।

চিঠি অনুযায়ী, এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি শাখা শিবিরের মাসিক সেক্রেটারিয়েট সভায় আম্মারের ‘সাথী’ পদ স্থগিত করা হয়। একই সঙ্গে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাকে যথাযথ জবাব দিতে বলা হয়। পরবর্তীতে সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের মাসিক সেক্রেটারিয়েট সভায় তার পদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

চিঠিতে আরও বলা হয়, আম্মারের কর্মকাণ্ড এবং ক্যাম্পাসে ‘ফৌজদারি অপরাধে জড়িত হওয়ার ফলে’ অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। তার কথিত ‘উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের’ কারণে ক্যাম্পাস সংঘাতের দিকে যেতে পারে বলেও চিঠিতে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

এ অবস্থায় আম্মারের সঙ্গে অনলাইন ও অফলাইন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা পরিহার করতে দায়িত্বশীল নেতাদের নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তার কোনো নেতিবাচক মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়ায় সাড়া না দেওয়া এবং রাকসুর নির্বাচিত দায়িত্বশীলদের তার সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শাখা ছাত্রশিবিরের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেন, নগর ভবন থেকে ল্যাপটপ চুরি, মহানগর ছাত্রশক্তির পদ বাণিজ্য ও আর্থিক অনিয়মসহ বিভিন্ন অভিযোগে আম্মারের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি করা হয়েছিল। পরে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।

ওই নেতা আরও দাবি করেন, আম্মার তামিরুল মিল্লাত মাদরাসা শাখার ‘সাথী’ ছিলেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি ‘বিকল্প সাহিত্য’ নামের একটি সাংস্কৃতিক সংগঠনে কাজ করতেন, যেটি শিবিরের জনশক্তি দিয়ে পরিচালিত হতো বলে ওই নেতা দাবি করেন।

শাখা ছাত্রশিবিরের আরেক নেতা বলেন, সংগঠনের নিয়ম অনুযায়ী প্রথমে আম্মারের ‘সাথী’ পদ স্থগিত করে অভিযোগের জবাব চাওয়া হয়েছিল। জবাব দিতে ব্যর্থ হওয়ায় পরে পদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সম্প্রতি তার কর্মকাণ্ড নিয়ে আরও কিছু বিষয় সামনে আসায় যোগাযোগ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তবে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সঙ্গে নিজের সাংগঠনিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ সালাহউদ্দিন আম্মার বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন।

রাকসু নির্বাচনে ‘আধিপত্যবিরোধী ঐক্য’ প্যানেল থেকে জিএস নির্বাচিত হন আম্মার। ওই প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মেহেদী সজীব পরবর্তী সময়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। ফলে আম্মারের ‘সাথী’ পদে থাকার তথ্যসংবলিত চিঠি প্রকাশের পর প্যানেলটির সঙ্গে শিবিরের সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি হাফেজ মেহেদী হাসান বলেন, সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কেউ বহিষ্কার হলে এসব তথ্য প্রকাশ করার নিয়ম নেই। তার দাবি, আম্মার তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসায় পড়ার সময় শিবিরের ‘সাথী’ পদে যুক্ত ছিলেন এবং পরে কোডিং সিস্টেমের মাধ্যমে তাকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখায় স্থানান্তর করা হয়।

মেহেদী হাসানের দাবি, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে আম্মারের বিরুদ্ধে অর্থ কেলেঙ্কারি ও ইসলামী পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ পাওয়ার পর তাকে জবাব দিতে বলা হয়। সন্তোষজনক জবাব না পাওয়ায় সেপ্টেম্বরে তাকে পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। বহিষ্কারের পর আম্মারের সঙ্গে শিবিরের কোনো সাংগঠনিক সংশ্লিষ্টতা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

অভিযোগ ও শিবিরের চিঠির বিষয়ে সালাহউদ্দিন আম্মারের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।